১০ই শাবান, ১৪৪৫ | ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

দুনিয়াদারদের উপমা | ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া

শেয়ার:

ইবনুল কায়্যিম رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ বলেন, দুনিয়াদারদের উপমা হল ওই সম্প্রদায়ের মতো যারা একটি নৌকায় আরোহণ করল। নৌকাটি তাদের নিয়ে একটি দ্বীপের কিনারে ভিড়ল। মাঝি সকলকে দ্বীপে অবতরণ করে প্রাকৃতিক প্রয়োজন ও অন্যান্য জরুরত সেরে নিতে বলল। অবতরণের সময় মাঝি সকলকে বেশি দেরি না করার কথা বলে দিল। এমনকি দেরি করলে নৌকা হারাবার কথাও স্মরণ করিয়ে দিল।

যাত্রীরা সকলে নেমে দ্বীপের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ল। তাদের কেউ কেউ দ্রুত নিজেদের প্রয়োজন সেরে নৌকায় ফিরে এল। তারা ফিরে এসে দেখল নৌকা পুরোটা ফাঁকা ও খালি। তাই তারা বসার জন্য প্রশস্ত স্থান ও মনোরম আসন পেল। আবার কেউ কেউ প্রয়োজন সারার পরও কিছু সময় দ্বীপে অবস্থান করল। এ সময় তারা দ্বীপের বিভিন্ন ফল-ফুল ও সৌন্দর্য উপভোগ করল। সুন্দর সুন্দর পাথরের দৃশ্য ও পাখিদের গান উপভোগ করল। অতঃপর হঠাৎই তাদের মনে পড়ে গেল নৌকায় ফিরে যাবার কথা। মনে পড়ে গেল দেরি করলে নৌকা হারাতে হবে; নৌকা তাদের রেখে চলে যাবে। বিধায় তারা দ্রুত নৌকায় প্রত্যাবর্তন করল। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তারা নিজেদের জন্য সংকীর্ণ জায়গা পেল এবং সেখানেই বসে পড়ল।

আর কেউ কেউ দ্বীপের ফল-ফুলের সৌন্দর্য ও সুন্দর সুন্দর পাথরের উপর আসক্ত হয়ে পড়ল। ফলে তারা সেখান থেকে কিছু পাথর ও ফুল বহন করে নিয়ে এল। যখন তারা নৌকায় ফিরে এল, তখন তারা এতটাই সংকীর্ণ জায়গা পেল, যাতে নিজেরাই বসতে পারবে না, পাথর ও ফুল রাখা তো পরের কথা। ফলে ফুল-পাথরগুলা বহন করে নিয়ে আসাটা তাদের জন্য এক ধরনের শাস্তি ও বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিল। আবার এগুলোকে লজ্জার কারণে ফেলেও দিতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়ে সেগুলো নিজেদের কাঁধে বহন করল এবং এগুলোকে আনার কারণে লজ্জিত হতে লাগল। কিন্তু তাদের লজ্জা তাদের কোনো উপকার করল না। কিছু সময় পর ফুলগুলো পঁচে নষ্ট হয়ে গেল। সেগুলোর রঙ বদলে গেল। দুর্গন্ধ বের হয়ে অন্যদের কষ্টের কারণ হল।

আর কেউ কেউ দ্বীপের সৌন্দর্য ও মনোরম দৃশ্যে একেবারেই ডুবে গেল। তারা নৌকার কথা বেমালুম ভুলে গেল। দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এক সময় অনেক দূরে চলে গেল। এমনকি নৌকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় মাঝি যখন উচ্চ সুরে ডাক দিল, তখন তারা আনন্দ-বিনোদন ও উপভোগে লিপ্ত থাকার ফলে মাঝির ডাক তাদের কানে পড়ল না। বরং তারা কখনও গাছ থেকে ফল পারছে, কখনও ফুলের ঘ্রাণ নিচ্ছে, কখনও গাছগাছালির সৌন্দর্যে মুগ্ধ ও আশ্চর্যান্বিত হচ্ছে। এক পর্যায়ে তারা এই ভয়ও করতে লাগল- কোনো হিংস্র প্রাণী না আবার কোথাও থেকে বেরিয়ে এসে তাদের উপর আক্রমণ করে বসে, কোনো কাঁটাদার গাছের কাঁটা লেগে না আবার তাদের কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে যায় কিংবা তাদের পায়ে বিঁধে যায় অথবা কোনো কাঁটাদার গাছের শাখায় তাদের শরীর জখম হয়ে যায়!

(ইদাতুস সাবিরীন : ১৯৫-১৯৬)

📖 বই: দুনিয়ার মোহে পড়বেন না
✒️ লেখক: শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ


Deene Life Telegram Channel

Leave a Comment