১০ই শাবান, ১৪৪৫ | ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের তাৎপর্য ও করণীয় আমলসমূহ

শেয়ার:

জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন আসলে কি?:জিলহজ্জের দশ দিন’ হল হিজরি ক্যালেন্ডারের ১২তম মাস তথা জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন। এই দিনগুলোই হল সেই সময়, যখন অধিকাংশ হাজী মক্কা সফর করেন এবং হাজ্জ সম্পন্ন করে থাকেন। এই দশ দিনে হাজীরা যেমন অধিক সাওয়াব লাভের সুযোগ পান, তেমনি যারা হাজ্জে যেতে পারে না তাদেরও অন্যসব ইবাদাতের মাধ্যমে অধিক সাওয়াব হাসিল করে নেওয়ার সুযোগ থাকে।

একনজরে...

এই দশ দিনের তাৎপর্য কি?

১. আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করার মাধ্যমে এই দিনগুলোকে সম্মানিত করেছেন

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

لِّيَشْهَدُوا۟ مَنَـٰفِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا۟ ٱسْمَ ٱللَّهِ فِىٓ أَيَّامٍۢ مَّعْلُومَـٰتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلْأَنْعَـٰمِ ۖ فَكُلُوا۟ مِنْهَا وَأَطْعِمُوا۟ ٱلْبَآئِسَ ٱلْفَقِيرَ ٢٨

‘যেন তারা নিজেদের কল্যাণের স্থানসমূহে হাযির হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিয্ক দিয়েছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ-দরিদ্রকে খেতে দাও’। [সূরা হাজ্জ ২২:২৮]

অধিকাংশ আলিমগণ এই বিষয়ে একমত যে ওই ‘নির্দিষ্ট দিনগুলো‘ হল জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন; কেননা ইবনু আব্বাসের (রদিআল্লাহু আনহু) উক্তি রয়েছে, “এই নির্ধারিত দশ দিন হল প্রথম দশ (জিলহজ্জের)।” [সহীহ বুখারী ৯৬৯]

২. আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে এই দিনগুলোকে সম্মানিত করেছেন এই দিনগুলোর শপথ নিয়ে

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَٱلْفَجْرِ ١ وَلَيَالٍ عَشْرٍۢ ٢

শপথ ঊষার, শপথ দশ রাতের। [সূরা ফাজর ৮৯:১-২]

ইবনু আব্বাস, ইবনুল জুবাইর, মুজাহিদসহ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আলিমগণের অভিমত হলঃ এই আয়াতে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের কথা বলা হয়েছে। (তাবারি ২৪/৩৯৬)

৩. এই দিনগুলোকে সবচেয়ে সম্মানিত এবং সর্বোত্তম দিন হিসেবে ধরা হয়

আহমাদ এবং আত-তাবারানি ইবনু উমার হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ বলেন,

“আল্লাহর দৃষ্টিতে এই দিনসমূহ (জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন) থেকে মর্যাদাপূর্ণ দিন আর নেই এবং এই দিনগুলোতে করা ইবাদাতের চেয়ে প্রিয় ইবাদাত আর নেই। সুতরাং এই দিনগুলোতে বেশি বেশি করে তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) এবং তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) পড়।” [আহমাদ ৭/২২৪]

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় অবস্থানকালে বললেনঃ

তোমরা কি জান, এটি কোন্ দিন? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জান এটি কোন্ শহর? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে বেশি জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত শহর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জান এটি কোন্ মাস? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটি সম্মানিত মাস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ মাস, এ শহর, এ দিনটি তোমাদের জন্য যেমন সম্মানিত, তেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জান, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের ইয্যত-আবরুকে তোমাদের পরস্পরের জন্য সম্মানিত করে দিয়েছেন। হিশাম ইবনু গায (রহ.) নাফি‘ (রহ.)-এর মাধ্যমে ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাজ্জ আদায়কালে কুরবানীর দিন জামারাতের মধ্যবর্তী স্থলে দাঁড়িয়ে এ কথাগুলো বলেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন যে, এটি হল হাজ্জে আকবারের দিন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক। এরপর তিনি সাহাবীগণকে বিদায় জানালেন। তখন সাহাবীগণ বললেন, এটি-ই বিদায় হাজ্জ। [সহীহ বুখারী ১৭৪২]

৪. এই দিনগুলোর ইবাদাত জিহাদ থেকেও উত্তম (সাধারণ অবস্থায় সর্বোত্তম যে ইবাদাত আমরা করতে পারি)

জিহাদের ফযিলতের তুলনায় আর কোনো ইবাদাতের ব্যাপারেই এত বেশি সংখ্যক হাদিস খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদাত আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ থেকেও উত্তম। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ‘আমলের চেয়ে অন্য কোন দিনের ‘আমলই উত্তম নয়। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ছাড়া যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না। [সহীহ বুখারী ৯৬৯]

৫. কয়েকজন সাহাবা এবং তাবেঈদের আমল

কয়েকজন সাহাবা এবং তাবেঈনের (সাইদ ইবনু জুবাইরও তাঁদের একজন) থেকে বর্ণিত আছে যে, যখন জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন আসতো, তাঁরা এই সুযোগ কাজে লাগাতেন আর এত বেশি পরিমাণ ইবাদাত করতেন যে এর চেয়ে বেশি ইবাদাত করা আর সম্ভব ছিল না।

জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের করণীয় আমলসমূহ

১. আল্লাহর যিকির

  • তাহলিল অর্থাৎ “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পড়া।
  • তাকবির অর্থাৎ “আল্লাহু আকবার” বলা।
  • তাহমিন অর্থাৎ “আলহামদুলিল্লাহ” পড়া।
  • তাসবিহ অর্থাৎ “সুবহানাল্লাহ্” পড়া।
  • ইস্তিগফার করা; “আস্তাগফিরুল্লাহ“।
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ ওপর দুরুদ ও সালাম পেশ করা।
  • সহিহ হাদিসে উল্লেখিত তাসবিহগুলো পাঠ করা।

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

অতঃপর যখন তোমরা সালাত পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করবে। [সূরা নিসা ৪:১০৩]

২. সাধ্যানুযায়ী সিয়াম পালন

যিলহজ মাসের প্রথম নয় দিনের রোজা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। যেহেতু অন্যান্য নেক আমলের মধ্যে সিয়ামও অন্যতম, তাই এ দিনগুলোতে খুব যত্নসহকারে সিয়াম পালন করা। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি,

যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিনও সিয়াম পালন করে, আল্লাহ্ তার মুখমন্ডলকে দোযখের আগুন হতে সত্তর বছরের রাস্তা দূরে সরিয়ে নেন। [সহীহ বুখারী ২৮৪০]

৩. যথাসম্ভব সাদাকাহ করা

যদিও সারা বছর জুড়েই আমাদের সাদাকাহ করা উচিত, তবে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনে আমাদের প্রত্যেকের আরও বেশি করে আল্লাহর রাস্তায় সাদাকাহ করা উচিত। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

তোমরা কখনো সওয়াব অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না ব্যয় করবে তা থেকে, যা তোমরা ভালবাস। আর যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। [সূরা আলে ইমরান ৩:৯২]

৪. কুরআন তিলাওয়াত

কুরআন তিলাওয়াত এই দশদিন ছাড়াও প্রতিদিনের অভ্যাস হওয়া উচিত। কুরআন তিলাওয়াতকারী বান্দারা আল্লাহ আযযাওয়াজালের নিকট বিশেষ মর্যাদার অধিকারি। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

আল্লাহ তা’আলার কিতাবের একটি হরফ যে ব্যক্তি পাঠ করবে তার জন্য এর সাওয়াব আছে। আর সাওয়াব হয় তার দশ গুণ হিসেবে। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। [সুনান আত তিরমিজী ২৯১০]

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, “কুরআনকে পরিত্যাগ করা হয় ৫ উপায়েঃ

  • কুরআন তিলাওয়াত শোনা পরিত্যাগ করা,
  • কুরআনের হালাল-হারাম তথা বিধিবিধান পরিত্যাগ করা,
  • ছোট-বড় যেকোনো কলহ-বিবাদের ক্ষেত্রে কুরআনের দিকে প্রত্যাবর্তন না করা,
  • কুরআনের ব্যাপকতা ও বোধগম্যতা ত্যাগ করা,
  • অসুস্থ হৃদয় নিরাময়ের জন্য কুরআনের ব্যবহার ত্যাগ করা। (হতাশা এবং অসুস্থ অনুভূতি নিরাময়ে কুরআনের পরিবর্তে অন্যান্য উপায় অবলম্বন করা)”

৫. অবিরত এবং অবিচলভাবে দুআ করতে থাকা

যে ব্যক্তি দুআ করে না, সে আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়ে যেতে পারে। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

আল্লাহ তা’আলার কাছে যে লোক চায় না, আল্লাহ তা’আলা তার উপর নাখোশ হন। [সুনান আত তিরমিজী ৩৩৭৩]

যখন আপনি অধিরভাবে আল্লাহর কাছে দুআ করতে থাকবেন, তখন জেনে রাখুন আল্লাহ আপনার দুআ কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ। যখন উলামাদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আমরা কীভাবে বুঝব যে আল্লাহ তা’লা আমাদের দুআ কবুল করবেন? তাঁদের উত্তর ছিল এমন – যখন কেউ পানিতে ডুবে যেতে থাকে আর বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে সাহায্য চাইতে থাকে, আল্লাহর কাছে সেভাবে চাইলে (আল্লাহ সেই দুআ কবুল করেন)। দুআ করবার জন্য দুআ কবুলের সময়গুলো খুঁজে বের করুন। সেই সময়গুলোর অন্যতম হলঃ

  • রাতের শেষ তৃতীয়াংশ,
  • ফরয সলাতের পূর্বে আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়,
  • জুমুআর দিনে ইমাম যখন মিম্বরে অবস্থান করেন,
  • বৃষ্টির সময়,
  • সিজদাহরত অবস্থায়।

মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যে কোন বান্দা পবিত্র অবস্থায় রাত যাপন করলে এবং ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আল্লাহর নিকট দুনিয়া বা আখেরাতের কিছু প্রার্থনা করলে তিনি অবশ্যই তাকে তা দান করেন। [সুনান ইবনু মাজাহ ৩৮৮১]

৬. কিয়ামুল লাইল

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন,

আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় কর তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন। [সূরা ইসরা ১৭:৭৯]

৭. আরাফার দিনের মর্যাদা এবং এই দিনে সিয়াম রাখা

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ….. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

আরাফাহ দিবসের তুলনায় এমন কোন দিন নেই- যেদিন আল্লাহ তা’আলা সর্বাধিক সংখ্যক লোককে দোযখের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। আল্লাহ তা’আলা নিকটবতী হন, অতঃপর বান্দাদের সম্পর্কে মালায়িকার সামনে গৌরব প্রকাশ করেন এবং বলেনঃ তারা কী উদ্দেশে সমবেত হয়েছে (বা তারা কী চায়)? [সহীহ মুসলিম ১৩৪৮]

এই দিনে সিয়াম থাকা হলে বিগত এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আবু কাতাদাহ (রদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহকে আরাফার দিনের সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন,

‘তা (ঐ দিনের) পূর্বের এবং পরের এক বছরের গুনাহসমূহের ক্ষতিপূরণ”। পুনরায় আশুরার দিনে সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, “তা এর বিগত এক বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ।” [সহীহ মুসলিম ১১৬২]

৮. ১০ই জিলহজ্জ পশু কুরবানি

আসমান-জমিন ও দিন-রাতের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আযযাওয়াজাল কিছু দিনকে অন্য দিনের ওপর আমল করে নেওয়ার জন্য মর্যাদা দিয়েছেন। কুরবানি এমনই একটি আমল। দশম দিনে কুরবানির আমলে রয়েছে বিরাট পুরষ্কার, যারা হাজ্জে গিয়েছে এবং যারা হাজ্জে যায়নি তাঁদের উভয়দলের জন্যই। কুরবানি দেওয়ার সময় ১০ই জিলহজ্জ থেকে এর পরের তিন দিন পর্যন্ত অর্থাৎ, ১৩ই জিলহজ্জ পর্যন্ত। এই কুরবানি আল্লাহর তাওহিদের ঘোষণার জন্য, একমাত্র তাঁর প্রশংসার জন্য, পিতা ইবরাহিমকে (আলাইহিস সালাম) অনুসরণের জন্য। আল্লাহ আযযাওয়াজাল বলেন,

সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর। [সূরা কাওসার ১০৮:২]

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

বল, ‘নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব’। [সূরা আল-আন’আম ৬:১৬২]

৯. তওবাহ

রাসূলুল্লাহর ﷺ অনুসরণে প্রতিদিনই তাওবাহ করা উচিত। তাওবা অর্থ ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা। আল্লাহ তা‘আলার নাফরমানি থেকে ফিরে আসা, আল্লাহর হুকুমের পাবন্দি করার উপর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা এবং অতীতের কৃত কর্মের উপর অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে তা ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কখনো আল্লাহর নাফরমানি না করা ও তার হুকুমের অবাধ্য না হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করা। এ দিন গুলোতে তাওবা করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালবাসেন এবং ভালবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে। [সূরা বাকারা ২:২২২]

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

প্রত্যেক আদম সন্তানই গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারীগণ উত্তম। [সুনান ইবনে মাজাহ ৪২৫১]

১০. সাধারণ সুন্নাহ ও নফল সালাত

উম্মু হাবীবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যে ব্যক্তি দিন রাতে বার রাক’আত নামায আদায় করবে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করা হবে। যুহরের নামাযের পূর্বে চার রাকাআত এবং পরে দুই রাকাআত, মাগরিবের নামাযের পরে দুই রাকাআত, ইশার নামাযের পরে দুই রাকাআত এবং ভোরের ফজরের নামাযের পূর্বে দুই রাকাআত। [সুনান আত তিরমিজী ৪১৫]

আল্লাহ আযযা ওয়াজালের কাছে আমাদের যাবতীয় ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং দুআ করছি যেন আমরা তাঁর রহমত এবং ক্ষমা লাভের জন্য জিলহজ্জের পবিত্র দিনগুলোর সুযোগ নিতে পারি। আমিন। সংক্ষিপ্ত | মূল: জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন, আহমাদ মুসা জিবরিল।


Deene Life Telegram Channel

Leave a Comment