Sin of Tongue 2

জিহ্বার গুনাহ । পর্ব ০২

বিভাগ: মুসলিম চরিত্র

সম্ভাব্য পড়ার সময়: ৪ মিনিট

জিহ্বা আমাদের শরীরের একটি মূল্যবান অঙ্গ, তাই এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। জিহ্বার গুনাহসমূহ হলো মিথ্যা বলা, গীবত করা, পরনিন্দা করা, গালি দেওয়া, মিথ্যা কসম করা, চোগলখুরি করা ইত্যাদি। কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এ ব্যাপারে স্বয়ং সাক্ষ্য দেবে। কারণ আল্লাহ সেগুলোকে প্রশ্ন করবেন। এটা হাশরের ময়দানে গুনাহগারদের জন্য অত্যন্ত লাঞ্ছনার কারণ হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে।“ (সূরা নূর | আয়াত ২৪)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন,

মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে (তা লিপিবদ্ধ করার জন্য) তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে। (সূরা কাফ | আয়াত ১৮)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও আমাদেরকে জিহ্বার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন;

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন কর্মটি সবচাইতে বেশি পরিমাণ মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্‌ভীতি, সদাচার ও উত্তম  চরিত্র। আবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি সবচাইতে বেশি পরিমাণ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তিনি বললেনঃ মুখ ও লজ্জাস্থান। (জামে’ আত-তিরমিজি ২০০৪)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেনঃ মানুষ সকালে ঘুম হতে উঠার সময় তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিনীতভাবে জিহবাকে বলে, তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় কর। আমরা তো তোমার সাথে সম্পৃক্ত। তুমি যদি সোজা পথে দৃঢ় থাক তাহলে আমরাও দৃঢ় থাকতে পারি। আর তুমি যদি বাঁকা পথে যাও তাহলে আমরাও বাঁকা পথে যেতে বাধ্য। (জামে’ আত-তিরমিজি ২৪০৭)

অর্থাৎ জিহ্বার ব্যাপারে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করাই অহেতুক গুনাহ এবং বিপর্যয় থেকে বেঁচে থাকার একটি উপায়। এছাড়াও নিয়মিত তওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া আমাদের অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। এমন বেশ কিছু জিহ্বার গুনাহসমূহ সংক্ষেপে জেনে নেয়া যাকঃ

পরিহাসমূলক ভঙ্গি নকল করা

আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি লোকের পরিহাসমূলক ভঙ্গি নকল করলাম। তিনি বললেন, “কোন ব্যক্তির পরিহাসমূলক ভঙ্গি নকল করি আর তার বিনিময়ে এত এত পরিমাণ ধনপ্রাপ্ত হই, এটা আমি আদৌ পছন্দ করি না।” (আবূ দাউদ ৪৮৭৫, তিরমিযী ২৫০২, আহমাদ ২৫০৩২)

মন্দ উপনামে ডাকা

তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতইনা নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো যালিম। (আল-হুজুরাত | আয়াত ১১)

বংশ নিয়ে খোটা দেওয়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দু’টা স্বভাব মানুষের মাঝে রয়েছে, যা কুফুর বলে গণ্য বংশের প্রতি কটাক্ষ করা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চস্বরে বিলাপ করা। (সহীহ মুসলিম ১৩০)

উচ্চস্বরে বিলাপ করা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুটা স্বভাব মানুষের মাঝে রয়েছে, যা কুফুর বলে গণ্য বংশের প্রতি কটাক্ষ করা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চস্বরে বিলাপ করা। (সহীহ মুসলিম ১৩০)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাই‘আত গ্রহণকালে আমাদের কাছ হতে এ অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, আমরা (কোন মৃতের জন্য) বিলাপ করব না। (বুখারী ১৩০৬)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা (মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশে) গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে এবং জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। (বুখারী ১২৯৪)

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির জন্য তার আপন জনের কোন কোন কান্নার কারণে অবশ্যই তাকে ‘আযাব দেয়া হয়। (বুখারী ১২৮৭)

যে (মৃত) ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপকৃত বিষয়ের উপর ‘আযাব দেয়া হবে। (বুখারী ১২৯১)

আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, আল্লাহ্ ঈমানদার (মৃত) ব্যক্তিকে তার পরিজনের কান্নার কারণে আযাব দিবেন। তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা কাফিরদের আযাব বাড়িয়ে দেন তার পরিজনের কান্নার কারণে। অতঃপর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, (এ ব্যাপারে) আল্লাহ্‌র কুরআনই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। (ইরশাদ হয়েছে): ‘বোঝা বহনকারী কোন ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না’- (আন‘আম ১৬৪)। বুখারী ১২৮৮

একজনকে বাদ দিয়ে দুইজন কানাকানি করা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোথাও তিনজন থাকলে তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে দু’জনে মিলে চুপি চুপি কথা বলবে না। (সহীহ বুখারী ৬২৮৮)

আল্লাহ বলেছেন,

অর্থাৎ গোপন পরামর্শ তো শয়তানেরই প্ররোচনা। (সূরা মুজাদিলাহ ১০ আয়াত)

সবাই বরবাদ হয়ে গেছে এমন বলা

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন লোক বলে মানুষ বরবাদ হয়ে গেছে তাহলে সে সব লোকের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সহীহ মুসলিম ৬৫৭৭

সবাই উচ্ছন্নে গেল বা ধ্বংস হয়ে গেল’ বলা সেই ব্যক্তির জন্য নিষেধ, যে গর্বভরে সকলকে অবজ্ঞা করে ও নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ভেবে ঐ কথা বলে। এটাই হল হারাম। কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি লোকদের মধ্যে দ্বীনদারীর অভাব প্রত্যক্ষ করে দ্বীনী আবেগের বশীভূত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করার মানসে ঐ কথা মুখ থেকে বের করে, তাহলে তাতে কোন ক্ষতি নেই।

ওয়াসওয়াসা দেওয়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অন্যের স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অথবা ক্রীতদাসকে তার মনিবের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (আবু দাউদ ৫১৭০)

পুরুষের কাছে মহিলার শারীরিক বর্ণনা দেওয়া

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কোন নারী যেন তার দেখা অন্য নারীর দেহের বর্ণনা নিজ স্বামীর নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে তাকে (ঐ নারীকে) চাক্ষুস দেখতে পাচ্ছে। (বুখারী ৫২৪০)

ঈশার সালাতের পর গল্পগুজব

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন।

(সহীহ বুখারী ৫৬৮)

অসৎকাজের নির্দেশ সৎকাজে নিষেধ

মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা একে অপরের অংশ, তারা মন্দ কাজের আদেশ দেয়, আর ভাল কাজ থেকে নিষেধ করে, তারা নিজদের হাতগুলোকে সঙ্কুচিত করে রাখে। তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, ফলে তিনিও তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন, নিশ্চয় মুনাফিকরা হচ্ছে ফাসিক। (সূরা আত-তাওবা | আয়াত ৬৭)

শেয়ার:
guest

0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments